যে শিশু পরিবারে কেটেছে শৈশব, সেই আঙিনাতেই হলো শারমিনের বিয়ে
- আপডেট সময় : ০৬:৫৬:১৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ : একদিন পথ হারিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে সুনামগঞ্জের ছাতকে এসে পৌঁছায় ছোট্ট শারমিন আক্তার। তখন তার জানা ছিল না নিজের সঠিক ঠিকানা কিংবা স্বজনদের পরিচয়। অনিশ্চয়তার সেই চরম সময়ে সরকারি শিশু পরিবারই হয়ে ওঠে তার নিরাপদ আশ্রয়। এই আশ্রয়েই কেটে যায় তার জীবনের দীর্ঘ প্রায় ১২টি বছর। সেখানকার স্নেহ-মমতায় বেড়ে ওঠা শারমিন এবার পা রাখলেন জীবনের নতুন অধ্যায়ে। আর তাঁর বিয়ের জমকালো আয়োজনও হলো সেই সরকারি শিশু পরিবারের আঙিনায়—যে প্রতিষ্ঠানটি তাকে একদিন আপন করে নিয়েছিল।
শারমিনের বিয়েকে ঘিরে সুনামগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবারে তৈরি হয় যেন এক উৎসবের আমেজ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শিশু পরিবারের বর্তমান বাসিন্দাদের পাশাপাশি সাবেক বাসিন্দারাও মহা আনন্দে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
জানা গেছে, শারমিনের জন্ম ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ। তাঁর বাবার নাম জাকির মিঞা ও মায়ের নাম হাছিনা বেগম। ২০১৪ সালে ছাতক থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে তাঁর পরিবারের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পায় সরকারি শিশু পরিবার কর্তৃপক্ষ। এর আগে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে পথ হারিয়ে ছাতকে চলে এসেছিল শিশুটি। পরবর্তীতে ছাতক থানা পুলিশ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রথমে সিলেটের একটি সেফ হোমে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর তাঁকে সরকারি শিশু পরিবারে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তবে সেই সময়ে সুনামগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবারে আসন খালি না থাকায় ২০১৫ সালের ১৬ মার্চ শারমিনকে শ্রীমঙ্গল সরকারি শিশু পরিবারে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর সুনামগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবারে আসন খালি হলে তাঁকে আবার এখানে নিয়ে আসা হয়। এরপর সুনামগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবারেই তাঁর শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো কাটে। পাশের বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনাও করেন তিনি। সময়ের সাথে সাথে একসময়ের এই আশ্রয়কেন্দ্রটিই তাঁর কাছে হয়ে ওঠে পরম আপন পরিবারের মতো।
বর্তমানে ১৯ বছর বয়সী শারমিন নিজের পছন্দের জীবনসঙ্গী বেছে নিয়েছেন। সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার পশ্চিম নিয়ামতপুর গ্রামের ইয়াকুব আলী ও নাছিমা আক্তারের ছেলে ২১ বছর বয়সী মুজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় থেকে ভালোবাসার সম্পর্কের সূচনা।
মো.মোজাহিদুল বর্তমানে সুনামগঞ্জ শহরে ব্যবসা করেন। পরবর্তীতে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ের আয়োজন করা হয়।
বিয়ের অনুষ্ঠানে শিশু পরিবারের ৫৭ জন শিশু-কিশোরীর মধ্যে ছিল বাড়তি আনন্দের ছোঁয়া। তাঁদের কাছে শারমিন যেন পরিবারেরই একজন আপন বোন। আনন্দঘন এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক বাসিন্দারাও, যাঁদের কেউ কেউ বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য এই প্রতিষ্ঠানের বাইরে অবস্থান করছেন।




















