পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া এক কন্যা শিশুকে স্কুলে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে তারই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার ২১ মে সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী পার্শ্ববর্তী মৌমারী শাপলাকুড়ি কিণ্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ।
উপজেলার পামুলি ইউনয়নের হাকিমপুর নগরডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত আনোয়ার ইসলাম ভুক্তভোগী শিশুর প্রতিবেশী। বাসার পাশেই তার চা এর দোকান রয়েছে। সে একই এলাকার সোবহান ইসলামের ছেলে। আনোয়ার নিজেও এক কন্যা শিশুর বাবা।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা শিউলি আক্তার বলেন, ঘটনার দিন মেয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হলে তাকে কিছু দূর এগিয়ে দেই। এরপর স্কুল থেকে ফোনে ঘটনাটি জানানো হয় আমাকে। শনিবার ২৩ মে ওই শিশু কন্যাকে সাথে নিয়ে দেবীগঞ্জ থানায় আসেন শিউলি আক্তার ও তার স্বামী। ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, তার মা এগিয়ে দেয়ার কিছুক্ষণ পর স্কুলে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে আনোয়ার তার সাইকেলে জোর করে তুলে নেয় তাকে। কিছু দূর যাওয়ার পর সাইকেল থামিয়ে আনোয়ার রাস্তার পাশের একটি কলা বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত চেপে ধরলে মেয়েটি চিৎকার করে। পথচারীরা দেখে ফেলবে এই ভয়ে আনোয়ার হাত ছেড়ে দিলে শিশুটি সেখান থেকে দৌড়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষিকাকে সব খুলে বললে তার মাকে ফোনে সব জানানো হয়।
শিশুটির মা শিউলি আক্তার অভিযোগ করেন প্রায় ২০-২২ দিন আগেও তার মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টা করে আনোয়ার। সেদিন মক্তব ছুটি শেষে বাসার ফেরার সময় আনুমানিক সকাল ১১টার পর আনোয়ারের দোকানের সামনে এলে শিশুটির হাত ধরে রাস্তার পাশের লিচু বাগানে নেয় আনোয়ার। সেদিন শিশুটিকে বিবস্ত্র করা হলেও পথচারীদের জন্য শিশুটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় আনোয়ার। তবে ছেড়ে দেয়ার আগে সেই ঘটনা যেন কাউকে না জানায় এই জন্য শিশুটিকে হুমকিও দেন আনোয়ার। যার কারণে পূর্বের ঘটনা সম্পর্কে শিশুটি তার মাকে কিছু জানায়নি। ওই ঘটনার পর শিশুটি আর মক্তবে যেতে না চাওয়ায় বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবারের ঘটনার পরে শিশুটি তার মাকে আগের ঘটনা জানায়।
এই বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, এই বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আসামী গ্রেফাতারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।