ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গোপালগঞ্জের তিন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ : বছরে ২২ কোটি টাকার সুপারি বিক্রি চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের (সিজন-২) উদ্বোধন রাজিবপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে জেলা এস্তেমা বন্ধের দাবিতে প্রতিপক্ষের মানববন্ধন, জেলা প্রশাসক বরাবরের স্মারকলিপি প্রদান সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত গ্রামবাসীর ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত এম শহীদ কান্নায় ভেঙে পড়লেন ঢাকার বসুন্ধরায় ৩ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু সারের সংকট নেই নীতিমালার বাইরে হলে বাতিল হতে পারে ডিলারের লাইসেন্স : কৃষিমন্ত্রী গোবিপ্রবিতে ৯ম জাতীয় মার্কেটিং দিবস পালিত

“নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে” লাউড়েরগড়ে যাদুকাটা নদীর পাড়কেটে বালু-উত্তোলন, হুমকির মুখে বৈদ্যুতিক কুটিগুলি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:৫৭ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৯৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড়ে পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু-উত্তোলন করে চলেছে একটি স্থানীয় বালু খেকো সিন্ডিকেট চক্র। এতে প্রায় তীরবর্তী শতাধিক পরিবারের বসত বাড়ি,মিল কারখানা এবং বৈদ্যুতিক কুটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।

এদিকে পাড়কাটা অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও বন্ধ করা যাচ্ছে না পাড়কাটা।

বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই কিছু লোক বিভিন্নভাবে এ নদী হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অবিরাম চেষ্টা চালিয়েছে। সেসব বালুখোরদের বিরুদ্ধে এলাকার সচেতন জনসাধারণ সহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের নানামুখী প্রতিবাদে দু”একদিন বালু উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর যাদুকাটা নদীর পাশে অবস্থিত লাউড়েরগড়-ডালারপাড় গ্রাম ও বাজারের অর্ধশত মিল কারখানা,স্কুল, মসজিদ ইত্যাদি দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিলীন হয়ে যাবে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক কুটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আর মাত্র ১৫/২০ ফিট দূরে আছে বৈদ্যুতিক কুটি। অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে পুরো গ্রাম।
অবৈধ ও অনিরাপদভাবে লাখ লাখ বর্গফুট বালু উত্তোলন করে চলেছে দিনরাত। যা পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

স্থানীয়রা বলেন, নদী হতে বালু উত্তোলন করায় তীরবর্তী ঘরবাড়ি ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ হবে এবং ভূমি থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নীতি বহির্ভূত এবং অবৈধ। পাশাপাশি শেভ/ড্রেজার মেশিন দ্বারা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও পরিবেশ বিধ্বংসী।

তারা আরো বলেন, প্রতি রাতেই ডালারপাড় গ্রামের বালু খেকো সায়েদ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া ও একই এলাকার ফরিদ মিয়া গংরা লাউড়েরগড় যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করছে। যে কারণে আশেপাশের মানুষ বিপদাপন্ন অবস্থায় আছে। ঐ চক্রটি সরকারি খনিজরকম ভূমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে রেখে বর্তমানে ৪৫ টাকা ফুট বিক্রি করছে। সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

এভাবে পাড়কাটার ফলে লাখো নৌ শ্রমিকের জীবন ও জীবিকা হারাবে। এটা দ্রুত বন্ধ না করলে কোনমতেই নদীর তীরে স্থাপিত্ব মিল কারখানা,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার, মসজিদসহ ইত্যাদি রক্ষা করা যাবে না। মানুষ হারাবে কর্মসংস্থান, ঘরবাড়ি ও হাওর অকাল বন্যায় প্লাবিত হবে। পরিশেষে বালুখোরদের দ্বারা লাউড়েরগর হতে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ বিনষ্টকারী কর্মকান্ড বন্ধের দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শ্রমিক বলেন, পাড়কাটার বিরুদ্ধে আমি অনেকবার জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। তাদের নির্দেশে দু’একদিন বন্ধ থাকলেও অদৃশ্য কারণে আবারও পাড়কাটার মহোৎসব চলছে। কিন্তু বালু পাথর খেকো সিন্ডিকেটের কারণে তীরবর্তী সবকটি পরিবার ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। দ্রুত পাড়কাটা বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

বাদাঘাট পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো নাজমুল ইসলাম বলেন, আমি ফাঁড়িতে যোগদান করার পর গত একমাসে দুটি মাদক মামলা, মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইনে পাঁচটি মামলা এবং অবৈধভাবে পাড় কাটার অপরাধে আটটি পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার ধ্বংস করেছি। পাড় কাটায় যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন? তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো আমিনুল ইসলাম বলেন, পাড়কাটার অপরাধে দু’দিন আগেও বালু পাথর খেকোদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পাড়কাটা রোদে প্রতিনিয়ত নদীতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শাহরুখ আলম শান্তনুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোহাইমিনুল হক বললেন, আমাদের জনবল অনেক কম। পাড়কাটার বিষয়টি বিশেষ করে ভূমি অধিদপ্তর দেখেন। তবে আমি সুনামগঞ্জে যোগদানের পর পরিবেশ আইনে কয়েকটি মামলা হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, লাউড়েরগড় বাজারস্থ যাদুকাটা নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলন করায় আমি বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযান পরিচালনা করে নৌকাসহ একজনকে আটক করেছি। যে বা যারাই পাড় কেটে বালু উত্তোলন করবে তাদের বিরুদ্ধে বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :