ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চিকিৎসাবিহীন আর কত প্রাণ ঝরলে শেষ হবে নির্মাণকাজ  দিরাইয়ে বিভ্রান্তিকর ভিডিও বানিয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ : দুই ইউটিউবারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত আবেদন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বিশ্বম্ভরপুর চালবন চেকপোস্ট গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার কুমিল্লায় ২৩ হাজার ৫০০ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার গোপালগঞ্জে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত ময়মনসিংহে ৫ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে মন্টু সভাপতি ও ফয়সাল মাহমুদ সম্পাদক নির্বাচিত মধ্যনগরে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার, জব্দ ইঞ্জিনচালিত নৌকা ‎সাতক্ষীরায় আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে এক গৃহবধূর সংবাদ সম্মেলন

আফ্রিকায় অফশোর ক্যাম্পাস স্থাপনে ড. আসিফ মিজানের গুরুত্বারোপ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩২:৩৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে একটি শক্তিশালী”‘সফট পাওয়ার’ (Soft Power) বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সোমালিয়াসহ আফ্রিকার উদীয়মান শিক্ষা-বাজারে বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের “অফশোর (Offshore)” বা আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষা-কূটনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব। এই ঐতিহাসিক ভূ-রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত সুযোগকে কাজে লাগাতে সরকারের প্রতি দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক সংহতি প্রদানের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন সোমালিয়ার মোগাদিসুস্থ দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রখ্যাত বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।

আজ রাজধানীর শেরাটন হোটেলে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি) আয়োজিত “৪র্থ এইউবিআইসি-২০২৬ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স” -এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। “গুড গভর্ন্যান্স, জাস্টিস অ্যান্ড এথিক্যাল লিডারশিপ” শীর্ষক এই উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ (Keynote Paper) উপস্থাপন করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতা ভাইসচ্যান্সেলর এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আবুল হাসান এম. সাদেক।

ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের সেতুবন্ধন ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রা
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “সোমালিয়ায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী ও পেশাজীবীদের অনবদ্য অবদানের ফলে সেখানে বাংলাদেশের প্রতি একটি গভীর আস্থা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিদ্যমান। একজন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে আফ্রিকার শিক্ষা-প্রশাসনে একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব প্রদান আমার জন্য গৌরবের। আমি এই বিদ্যমান সুসম্পর্ককে দুই দেশের মধ্যে “অ্যাকাডেমিক সিনার্জি (Academic Synergy)” বা প্রাতিষ্ঠানিক সংহতি হিসেবে রূপান্তরের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

আন্তঃসীমান্ত শিক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত
তিনি জানান, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম ও মানদণ্ডের প্রতি সোমালিয়ার শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। এই চাহিদা পূরণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সম্প্রতি “দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়” এবং ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের’ মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব উভয় দেশের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, যৌথ গবেষণা (Joint Research) এবং ‘আন্তঃসীমান্ত শিক্ষাগত মিথস্ক্রিয়া (Cross-border Educational Interaction)’ নিশ্চিত করবে।

নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা ও সফট পাওয়ার
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ড. মিজান আরও বলেন, “সোমালিয়ার অ্যাকাডেমিক অঙ্গনে বাংলাদেশী শিক্ষার বিপুল চাহিদাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সেখানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি)-র একটি অফশোর ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। সরকার যদি যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক দ্রুত অনুমতি প্রদান করে, তবে এটি হবে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মেধা ও “শিক্ষাগত শ্রেষ্ঠত্ব (Academic Excellence)” রপ্তানির এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এর মাধ্যমে আফ্রিকান মহাদেশে বাংলাদেশের ‘সফট পাওয়ার’ ও কূটনৈতিক অবস্থান সুসংহত হবে।”

অনুষ্ঠানে কীনোট স্পিকার প্রফেসর ড. আবুল হাসান এম. সাদেক-এর দূরদর্শী ও নৈতিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। বক্তারা উল্লেখ করেন, তাঁর প্রবর্তিত নৈতিক শিক্ষার আদর্শ শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশী স্কলারদের সফলতার পথ প্রশস্ত করেছে।

সেমিনারে দেশ-বিদেশের বরেণ্য গবেষক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সুশাসন, নৈতিক নেতৃত্ব এবং আন্তঃসীমান্ত শিক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজ রূপান্তরের আশাবাদের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কনফারেন্সটির সমাপ্তি ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :