ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গোপালগঞ্জের তিন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ : বছরে ২২ কোটি টাকার সুপারি বিক্রি চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের (সিজন-২) উদ্বোধন রাজিবপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে জেলা এস্তেমা বন্ধের দাবিতে প্রতিপক্ষের মানববন্ধন, জেলা প্রশাসক বরাবরের স্মারকলিপি প্রদান সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত গ্রামবাসীর ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত এম শহীদ কান্নায় ভেঙে পড়লেন ঢাকার বসুন্ধরায় ৩ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু সারের সংকট নেই নীতিমালার বাইরে হলে বাতিল হতে পারে ডিলারের লাইসেন্স : কৃষিমন্ত্রী গোবিপ্রবিতে ৯ম জাতীয় মার্কেটিং দিবস পালিত

তেঁতুলিয়ায় জাল সনদে প্রভাষকের চাকরি, এমপিও বাতিল ও মামলার প্রক্রিয়া চলমান 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:৩৯ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মো, সোহরাব আলী, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : তেঁতুলিয়া উপজেলার একমাত্র মাঝিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ। উক্ত কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান মুন্নার বিরুদ্ধে জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হয়ে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সনদটি জাল হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় তার এমপিও বাতিল, নিয়োগ বাতিল, মামলা দায়ের এবং সরকারি অনুদান ও বেতন-ভাতা বাবদ গ্রহণ করা অর্থ আদায়ের সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে তালিকা পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত জাল ও ভুয়া সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১৮.১(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে এমপিও (অনুদান ও বেতন-ভাতা বাবদ সহায়তা) বাতিল, গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ বাতিল এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—সে বিষয়ে দশ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

গত ২৩ মে মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখা-৩ থেকে প্রকাশিত একাধিক দাপ্তরিক চিঠিতে এ শাস্তিমূলক কার্যক্রমের তথ্য জানানো হয়। মাউশির সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ৮৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে কলেজ পর্যায়ের ২৪ জন এবং স্কুল পর্যায়ের ৬১ জন রয়েছেন। কলেজ পর্যায়ের অভিযুক্তদের তালিকায় প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান মুন্নার নামও রয়েছে।

এনটিআরসিএর তালিকা অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানের দশম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৪-এর সনদটি বৈধ নয়। সংশ্লিষ্ট রোল নম্বরধারী পরীক্ষার্থী ওই পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ছিলেন বলে যাচাইয়ে উঠে এসেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান মুন্না বলেন, তিনি মাউশির দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন। তার দাবি, জাল সনদের তালিকায় যে নিবন্ধন সনদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সেই সনদ ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হননি; বরং অন্য একটি সনদের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে মাঝিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, তিনি কলেজে যোগদানের আগেই মোস্তাফিজুর রহমানের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। মাউশির শোকজ পাওয়ার পরই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তার মতে, নিয়োগের সময় নিয়োগ কমিটিরই এসব নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত ছিল।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মাউশি কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন সনদকে জাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :