ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গোপালগঞ্জের তিন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ : বছরে ২২ কোটি টাকার সুপারি বিক্রি চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের (সিজন-২) উদ্বোধন রাজিবপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে জেলা এস্তেমা বন্ধের দাবিতে প্রতিপক্ষের মানববন্ধন, জেলা প্রশাসক বরাবরের স্মারকলিপি প্রদান সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত গ্রামবাসীর ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত এম শহীদ কান্নায় ভেঙে পড়লেন ঢাকার বসুন্ধরায় ৩ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু সারের সংকট নেই নীতিমালার বাইরে হলে বাতিল হতে পারে ডিলারের লাইসেন্স : কৃষিমন্ত্রী গোবিপ্রবিতে ৯ম জাতীয় মার্কেটিং দিবস পালিত

ফুটবল যখন আবেগের নাম; সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের মানুষের চোখে ২০২৬ বিশ্বকাপ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪২ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ৯৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি (সুনামগঞ্জ) : বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর—ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ কড়া নাড়ছে দরজায়। ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশে তর্কের ঝড় নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই আবেগ যেন কোনোভাবেই তিক্ততায় রূপ না নেয়, সেটিই এখন বড় প্রার্থনা। অতীতে দেখা গেছে, খেলার সমর্থনে তর্কে জড়িয়ে হানাহানি এমনকি প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটেছে। অথচ ফুটবল তো আনন্দের নাম, শত্রুতার নয়। তাই এবার আমাদের প্রত্যাশা—তর্ক হবে হাস্যোজ্জ্বল, লড়াই হবে যুক্তিতে, কিন্তু দিনশেষে আমরা সবাই মিলে উপভোগ করব নির্মল বিনোদন। পুরনো বছরের তিক্ততার পুনরাবৃত্তি নয়, বরং ২০২৬ বিশ্বকাপ হোক সৌহার্দ্যের এক নতুন মাইলফলক।হাওরপাড়ের বাস্তব চিত্র আনন্দের আড়ালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ তবে সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরপাড়ের মানুষের জন্য এবারের ফুটবল উন্মাদনার মাঝে মিশে আছে এক বিষণ্ণ সুর। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে কৃষকের শেষ সম্বল—ফসলের জমি। যখন সারা বিশ্ব মেতে উঠবে ফুটবলের মহোৎসবে, তখন এই জনপদের মানুষের কপালে চিন্তার রেখা।
ফসলের ক্ষতি ও আর্থিক সংকট মাঠের ধান যখন পানির নিচে, তখন পকেটে টাকা নেই বললেই চলে। পরিবারের ভরণপোষণ যেখানে চ্যালেঞ্জ, সেখানে বাড়তি বিনোদনের খরচ জোগানো সাধারণ মানুষের জন্য এখন পাহাড়সম বাধা।
হতাশার ছায়া সুনামগঞ্জের গ্রামগুলোতে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও বড় পর্দায় খেলা দেখার সামর্থ্য অনেক পরিবারেরই নেই। অথচ এই হাওরবাসীর ফুটবল প্রেম আকাশচুম্বী।
সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি: প্রজেক্টরে হোক খেলা দেখার সুযোগ সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের সাধারণ মানুষ ও ফুটবলপ্রেমীদের এখন একটাই আকুতি—সরকার বা স্থানীয় বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসেন। তাদের দাবি

আমাদের জমি গেছে, ফসল গেছে, কিন্তু ফুটবল তো আমাদের রক্তে মিশে আছে। প্রতিটি গ্রামে যদি অন্তত একটি বা দুটি করে বিশাল প্রজেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়, তবে সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর মানুষ অন্তত একটু মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পাবে।”
গ্রামের মোড়ে কিংবা চায়ের দোকানে একটি প্রজেক্টর শুধু খেলা দেখার মাধ্যম নয়, বরং এটি হয়ে উঠতে পারে গ্রামবাসীর মিলনমেলা। এই দুঃসময়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় প্রিয় দলের খেলা দেখতে পারাটা হবে হাওরবাসীর জন্য সেরা উপহার।
২০২৬ বিশ্বকাপ আসুক সাম্য আর আনন্দের বার্তা নিয়ে। কোনো হানাহানি নয়, বরং হাস্যরস আর নিখাদ বিনোদনের মধ্য দিয়ে কাটুক প্রতিটি মুহূর্ত। সুনামগঞ্জের দুর্গত মানুষের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটাতে স্থানীয় প্রশাসন ও দানশীল ব্যক্তিদের এই প্রজেক্টর স্থাপনের দাবিতে সাড়া দেওয়া জরুরি। দুর্যোগের কষ্ট ভুলে ফুটবল যেন সবাইকে এক সুতোয় গেঁথে রাখে—এটাই এখন সুনামগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা।
সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের এই সংকটের কথা মাথায় রেখে কি মনে হয়, স্থানীয় পর্যায়ে ক্লাবগুলো বা প্রভাবশালীরা কি এমন উদ্যোগ নিতে এগিয়ে আসবে?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :