কুমিল্লায় মাদক নির্মূলে ‘যুদ্ধ’, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ১২:১১:২৩ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কুমিল্লার সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, এমপি (লক্ষ্মীপুর-৪)।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রোজী আকতার।
সভায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, সড়ক নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় হয়।
সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, সংকটের সমাধান আছে, আর সেই সমাধানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় রাজনীতিতে যার যার অবস্থান থেকে রাজনীতি করব। কিন্তু রাষ্ট্রের স্বার্থে, নিরাপত্তার স্বার্থে, আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার স্বার্থে এবং পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমরা একই জায়গায় আছি। আমরা ভোটাভুটি করব, বাহাস করব, জয় মেনে নেব, পরাজয় মেনে নেব—এটাই আমাদের নেতা তারেক রহমানের রাজনীতির মূল কথা।’
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের বিরোধী দলের যারা আছেন তারাও এটা বিশ্বাস করেন। আমরা কুমিল্লার জন্য একসঙ্গে কাজ করব। মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করব। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছি।’
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের পাশাপাশি প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে হুইপ বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনের সকলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কুমিল্লার মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের বিষয়েও তারা কাজ করবেন। পাশাপাশি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও ওয়াসা নিয়েও সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা জানান তিনি।
এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘আমরা ডেঙ্গু নিয়েও কাজ করব। সার নিয়ে কেউ যেন কোনো ধরনের সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও কাজ করব।
আপনারা জানেন, বিদ্যুৎ একটি বড় সমস্যা। আমরা বিদ্যুৎ নিয়েও কাজ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে কোনো সমস্যার মোকাবিলায় বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সমানসংখ্যক সদস্যের কমিটি গঠন করে সমস্যার সমাধান করা হবে।’
সম্প্রতি গ্যাস সংকট নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে গ্যাস সংকট নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমান সংখ্যক—বিরোধী দল থেকে পাঁচজন এবং সরকারদল থেকে পাঁচজন—নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। আমরা কুমিল্লার মাধ্যমে সারাদেশকে নতুন একটি মেসেজ দিতে চাই—আমরা জনগণের জন্য কাজ করব।’
তিনি বলেন, ‘জনগণই সার্বভৌম। আল্লাহর পরে জনগণই সবকিছুর মূল। আমরা জনগণের কাছে কমিটমেন্ট করেছি, আমরা জনগণের জন্যই কাজ করব।’
জামিন ও বিচারিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিচারপতি ও বিচারকরা অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং প্রজ্ঞাবান।
তিনি বলেন, ‘যারা বিচারপতি আছেন, তারা অনেক বেশি বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ। জজ সাহেবরা তাদের কম্পাউন্ডের বাইরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও নৈতিকভাবে যাওয়া-আসার বিষয়ে অনেক সতর্ক থাকেন। তারা দেশকে আমাদের চেয়ে অনেক বেশি রক্ষা করেন, সংবিধানকেও রক্ষা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, যারা খারাপ মানুষ তাদের কাকে জামিন দেওয়া হবে আর কাকে জামিন দেওয়া হবে না—এটা তারা সবচেয়ে ভালো জানেন। আমরা এ বিষয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।’
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, কুমিল্লায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমরা অলরেডি কুমিল্লা পুলিশ সুপারসহ কাজ করছি। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় একটি মেট্রোপলিটন পুলিশ দরকার।’
কুমিল্লা জেলার আয়তন ও জনসংখ্যার ব্যাপকতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জেলা সবচেয়ে বৃহৎ জেলা।এখানে ১৮টি উপজেলা রয়েছে। তাই মেট্রোপলিটন পুলিশ আমাদের প্রয়োজন।’
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ চলছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও কুমিল্লায় মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেছেন।
জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা সবাই মিলে যদি দ্রুত সম্ভব কুমিল্লায় মেট্রোপলিটন পুলিশ আনতে পারি, তাহলে আমাদের লোকবল বাড়বে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে।’
বিরোধী দলীয় সংসদ উপনেতা ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, কুমিল্লার দায়িত্বে যাকে দেওয়া হয়েছে তিনি একজন বড় দায়িত্ববান ব্যক্তি। এ দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যখন জুলাই সনদের আলোচনা হচ্ছিল, তখন আমাদের দাবির মধ্যে দুটি দাবি ছিল—একটি কুমিল্লা বিভাগ এবং অন্যটি ফরিদপুর বিভাগ। ইনশাআল্লাহ আমরা একসঙ্গে কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে কাজ করব।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রী নিজে হেঁটে সংসদে সকল সংসদ সদস্যের কাছ থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ করেছিলেন। ইনশাআল্লাহ এবারও আমাদের যা যা প্রয়োজন, আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে করব। মাননীয় হুইপ ও মাননীয় মন্ত্রীসহ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।’
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কুমিল্লা বিভাগ ত হয়েই গেছে,কুমিল্লা বিভাগ একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেন কোনো আঞ্চলিক বিদ্বেষে না জড়াই। কুমিল্লা ও নোয়াখালীর সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিভাগকে কেন্দ্র করে আমরা যেন কোনোভাবেই আঞ্চলিক বিদ্বেষ, আঞ্চলিক হিংসা বা ক্ষোভের মধ্যে না জড়াই।’
তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই আসবে। তবে যে কেউ গণতান্ত্রিক দাবি নিয়ে সরকারের কাছে দাবি পেশ করতে পারেন। কিন্তু এটা নিশ্চিত করতে হবে, কোনোভাবেই যেন আঞ্চলিক বিদ্বেষ ও ঘৃণা-ক্ষোভের মধ্যে আমরা না জড়াই।’
এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের আঞ্চলিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতি যেন বিদ্যমান থাকে, সে বিষয়ে আপনাদের গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।’
সভায় কুমিল্লার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বলা হয়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি, তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধের কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
মাদক নিয়ন্ত্রণে চলমান অভিযান আরও জোরদারের পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
সভায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তর ও সংস্থাকে আরও দায়িত্বশীল ও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় কুমিল্লার জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, সার সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা, বিদ্যুৎ সমস্যা, সড়ক নিরাপত্তা, অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থে সার সরবরাহে যাতে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নাগরিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
সভায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসীম উদ্দিন, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় সংসদ উপনেতা ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম, সিভিল সার্জন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, কুমিল্লার শান্তি, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অপরাধ প্রতিরোধে তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় কুমিল্লাকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সুশাসিত ও জনবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এ সময় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জনগণের স্বার্থ, কুমিল্লার উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা এবং জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ একযোগে কাজ করলে কুমিল্লার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।















