চরফ্যাশনে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৫:৫৪:১৩ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
চরফ্যাশন প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাশনে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আয়োজনে ২০১৩ সালের জাতীয়করণের গেজেট থেকে বাদপড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং কেজি নীতিমালায় নিবন্ধন অর্ন্তভুক্ত না করণসহ নানা দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার বেলা ১১ টার সময় চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক মোঃ ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ৯ জানুয়ারী ২০১৩ সালের ঘোষণা অনুযায়ী ২০১২ সালের পূর্বে প্রতিষ্ঠিত জমিদলিলকৃত ও পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদীত বিদ্যালয়গুলো জাতীয় আওতাভুক্ত রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে সারাদেশে প্রায় ৩১ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে থেকে ২৬১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য প্রেরণ করা হয়। যার ফলে ২৬১৯৩টি প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের অন্তরভুক্ত হয় এবং ৪১৫৯ টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ে।
এ সব বিদ্যালয় থেকে ২০০৯ হতে ২০১৯ পর্যন্ত নিজ বিদ্যালয় কোডে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ২০২২ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং সর্বশেষ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ যেটা ১৫ এপ্রিল ২০২ হতে শুরু হয়েছে। ২০১৩ সালের জাতীয়করণের গেজেট থেকে বাদপড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাী্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং কেজি নীতিমালায় নিবন্ধন অর্ন্তভূক্ত না করার দাবী জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিদ্যালয়গুলো জাতীয়রকরণের জন্য উপজেলা ও জেলাতে যাচাই বাছাই করা হলেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জাতীয়করণ করা হয়নি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহাবুব আলম বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক মূল্যবোধ, মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়। বিগত এক যুগের বেশি সময় জাতীয়করণের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করলেও জাতীয়করণের সুরাহা এখন পর্যন্ত হয়নি। এমনকি বিগত দিনে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকরা অবস্থান নিলে শিক্ষকদের নির্যাতন, নিপীড়ন, জলকামান, টিআরগ্যাস নিক্ষেপ করে আটক করে পুলিশ। বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় আমরা শান্তি পূর্ণ মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সংগঠনের সাংগাঠনিক সম্পাদক মো: মোস্তফা কামাল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেন। সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করে শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করেন। সেই সাথে সকল শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও খাদ্যের ব্যবস্থা চালু করেন। এই বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় লক্ষ-লক্ষ কোমলমতি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। কিন্তু সরকারি উপবৃত্তিসহ সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা হতে দীর্ঘদিন যাবৎ বঞ্চিত রয়েছে । বিদ্যালয়গুলোর বেশি ভাগই প্রত্যন্ত গ্রাম ও হাওড় এলাকায় অবস্থিত। এছাড়াও বেশির ভাগই হত দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা এই বিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করেন। এই সকল শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আওতাভূক্ত করলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় গমনে আগ্রহী হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, ভোলা জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থবিষয়ক সম্পাদক মোঃ ছালাহ, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোঃ শহিদ উল্লাহ, কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক মোসাঃ সাকিয়া, মোঃ রহমান, মোঃ ইলিয়াছ, মোঃ শাহিন আলাল, মোঃ জসিম উদ্দিন প্রমুখ।




















