উপ-পরিচালক (প্রশাসকের) বিরুদ্ধে ফেইসবুক ফেক আইডিতে অপ-প্রচার
- আপডেট সময় : ১১:৫১:৩৯ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ফেইসবুক ফেক আইডি তৈরি করে উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (বতর্মানে সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক) অসীম চন্দ্র বণিক এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অডিও রের্কড বেশ কয়েকটি ভূয়া ফেইক আইডিতে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে নানা অপ-প্রচার চালানো হচ্ছে। মানহানীকর অপপ্রচারে এমন হয়েছে যে, ভুক্তভোগীরা রীতিমতো অসহায় বোধ করছেন। যে কারণে পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক এর পরিবার সহ অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজনের পাশাপাশি ইজারাদার ও প্রশাসকের পরিবারের লোকজনও থানায় সাধারন ডায়রী করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব অপ-প্রচারকারী নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের আইডি সনাক্তের পর সাইবার ট্রাইবুনালে মামলার প্রস্ততি চলছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, জুলাই-আগষ্টের পর সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিকসহ অন্যান্য ব্যবসায়ি,জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবারসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে’ এবং অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
অসৎ উদ্দেশ্যে নানা অপ-প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন এবছর যাদুকাটা বালু মহাল লীজ না পাওয়া সাবেক দুই বারের ইজারাদার রতন মিয়া, আজাদ মিয়া গংরা।
ওই সকল আইডি থেকে মিথ্যা-ভিত্তিহীন, কুরুচিপূর্ণ, অপমানজনক ও মানহানিকর তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এসব অপ-প্রচারের কারনে বালু মহালের ইজারাদার প্রশাসক সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন। ইতিমধ্যে ফেইক আইডি’র বিরুদ্ধে সাধারন ডায়রী করারও প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। থানা পুলিশ বলছে, এসব আইডি সনাক্ত করতে আইন-শৃংখলা বাহিনী গোয়েন্দা শাখার (সিআইডি) স্পেশাল ব্রাঞ্চের (আইটি শাখা) কাজ করছে। সময় বেশী লাগলেও এসব আইডি সনাক্ত করা যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইজারাদা বলেন,বেশ কয়েকদিন ধরেই বেশ কয়েকটি ফেইক আইডি থেকে আমার নির্বাচনী ইমেজ, ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান ক্ষুণ্য করা সহ পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা বানোয়াট তথ্য প্রচার করছে। একটি সিন্ডিকেট চক্র তাদের স্বার্থ হাসিল না হওয়ার কারণে আমার কাছে নগদ টাকা চাঁদা দাবি করছে। তাদের প্রস্তাবে আমি রাজি না হওয়ায় আমি সহ প্রশাসক মহোদয়ের বিরুদ্ধে ফেইসবুক এবং অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমি এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাই।
ব্যবসায়ি সুনজিল মিয়া বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে আওয়ামীলীগ নেতা আজাদ মিয়া ও রতন মিয়া গংরা রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে ১০৮ কোটি টাকার বালু মহাল মাত্র ৩২ কোটি টাকা দিয়ে ইজারা গ্রহন করে রাতের আধারে ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে দুই তীরের শত শত ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এবছর আমরা সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হওয়ায় আজাদ মিয়া গংরা আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। এই আইডি সামাজিক অস্তুুষ সৃষ্টি করতে পারে,এটাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এসব অপপ্রচারকারি নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের আইডি সনাক্ত হলেই সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা করবো। পরিশেষে ঐ অপ-প্রচারকারী এবং অনলাইন পোর্টালের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।
উপ-পরিচালক পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন,এ বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার মত সময় আমার হাতে নাই। ওরা অনৈতিক সুযোগ সুবিধা না পেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করে দীর্ঘদিন নদী বন্ধ রেখে শ্রমিকদের কর্মহীন করে রেখেছে।
আপনারা তো জানেন পূর্বে চেলা নদী কত টাকায় লীজ হতো। আর বর্তমানে কত টাকায় লীজ হয়েছে। যাদুকাটা নদী পূর্বে লীজ হয়েছিল ৩২ কোটি টাকায়। কিন্তু গত বছর যাদুকাটা বালু মহাল দুটি লীজ হয়েছে ১০৮ কোটি টাকায়। উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিট প্রত্যাহার করায় ভূমি মন্ত্রালয় নাছির মিয়াকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য ৪২ কোটি টাকায় লীজ দিয়েছেন। মিথ্যা ষড়যন্ত্র মূলক অডিও রের্কড তৈরি করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই মিথ্যা অপপ্রচারে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। তবে দুটি উপজেলার লাখো শ্রমিক ব্যবসায়ির কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে নদী উন্মুক্ত রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছি।
শ্রমিক সর্দার শাহজাহান মিয়া বলেন,যাদুকাটা নদীর দীর্ঘদিনের আইনগত জটিলতা নিরসন,সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় নিশ্চিত, হাজার হাজার বালু শ্রমিকের কর্মসংস্থান স্বাভাবিক রাখা সহ বিবদমান গ্রুপের দ্বন্দ্ব নিরসনে যিনি দিনরাত নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি হলেন স্থানীয় সরকার, সুনামগঞ্জের উপ-পরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, উপ-পরিচালক মহোদয় এখানে কোনো পক্ষ নেননি, তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে নদীটি সচল রাখার চেষ্টা করেছেন।
যাদুকাটা নদী খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর আন্তরিকতা ও সাহসী ভূমিকা সুনামগঞ্জবাসী দেখেছে। একজন সৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার আমরা মেনে নেব না। আমরা এই ষড়যন্ত্রমূলক অডিও প্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই, গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।



















