ওমরাহ পালনে গিয়ে হামলায় নিহত নাসরুল্লাহ, বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা তিন শিশুসন্তান
- আপডেট সময় : ১১:২৭:৩৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
মোঃ ইয়াছিন মিয়া, কুমিল্লা প্রতিনিধি : পবিত্র ওমরাহ পালনের স্বপ্ন নিয়ে ৪৫ জনের একটি দলের সঙ্গে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হাফেজ মুফতি মো. নাসরুল্লাহ। কিন্তু ধর্মীয় সফর শেষে আর দেশে ফেরা হলো না তাঁর। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা তাঁর তিন শিশুসন্তান। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।
নিহত নাসরুল্লাহর বয়স ৪৫ বছর। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিনি।
পরিবার জানায়, শনিবার সকালে ৪৫ জনের একটি দলের সঙ্গে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের পথে যাত্রা করেন নাসরুল্লাহ। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বড় ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। সেই কথোপকথনই এখন স্বজনদের কাছে হয়ে আছে শেষ স্মৃতি। এরপর তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবারে নেমে আসে শোকের মাতম।
নাসরুল্লাহর ছোট ভাই হাফেজ মাওলানা মো. আতিকুল্লাহ ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। ভাইকে হারানোর বেদনার পাশাপাশি তাঁকে ভাবিয়ে তুলছে ভাইয়ের রেখে যাওয়া ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তিনি চান, বিশ্বজুড়ে বন্ধ হোক হানাহানি ও প্রাণহানি, আর কোনো পরিবারকে যেন এভাবে প্রিয়জন হারানোর বেদনা সহ্য করতে না হয়।
নাসরুল্লাহর চাচাতো ভাই হাফেজ মো. নুর হোসাইনের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। আত্মীয়তার সম্পর্কের পাশাপাশি নাসরুল্লাহ ছিলেন তাঁর শিক্ষক। প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে তিনিও ভেঙে পড়েছেন। শোকের এই মুহূর্তেও তাঁর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে নাসরুল্লাহর ছোট সন্তানদের ভবিষ্যতের চিন্তা।
নিহতের বড় ভাই মুফতি আহসান উল্লাহ জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। সেই কথাই এখন স্মৃতি হয়ে আছে। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
চার ভাইয়ের মধ্যে নাসরুল্লাহ ছিলেন তৃতীয়। তাঁর বাবা-মা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ছিল সংসার। পরিবারের চার ভাই-ই পবিত্র কোরআনের হাফেজ।
নাসরুল্লাহর বড় ছেলে জামিলের বয়স মাত্র আট বছর। সে জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। যে বয়সে বাবার স্নেহ-ছায়ায় বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই বাবাকে হারানোর কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হলো তাকে ও তার দুই ভাইবোনকে।
পরিবারের উপার্জন, সন্তানদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় স্বজনেরা। প্রিয় মানুষটির এমন আকস্মিক বিদায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। যে মানুষটি পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়েছিলেন, তাঁর নিথর হয়ে পড়ার খবরে এখন শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার।
একদিকে প্রিয়জন হারানোর অসহনীয় বেদনা, অন্যদিকে তিন শিশুসন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে নাসরুল্লাহর বাড়িতে এখন শুধুই শোক আর হাহাকার।



















