কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের শয্যাসংখ্যা ১ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হবে : মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৭:৪৪:১৭ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শনিবার ১০ অক্টোবর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের নতুন অডিটোরিয়ামে ইন্টার্ন সমাপনী অনুষ্ঠান (কুম-২৯) ও ডাক্তার পুনর্মিলনী-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
মন্ত্রী বলেন, মেডিকেল কলেজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
সরকারি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যন্ত্রপাতি যাতে দ্রুত নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও যত্নবান হতে হবে। বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের চেম্বারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মতো সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতিও নির্ধারিত কার্যকাল পর্যন্ত সচল রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, একজন রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি চান, চিকিৎসক যেন তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। রোগীকে যথেষ্ট সময় দেওয়া ও তাঁর সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনার মাধ্যমে চিকিৎসক রোগীর মধ্যে মানসিক স্বস্তি ও আস্থা তৈরি করতে পারেন। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর প্রতি আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে পরিবেশদূষণ ও খাদ্যের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্ষতিকর কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোগীদের ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি সুস্থ থাকার উপায় সম্পর্কেও সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে পরামর্শ দিতে হবে।
আমিন উর রশিদ বলেন, সুস্থ থাকার জন্য সঠিক ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব বিশ্বজুড়ে আবারও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ওষুধের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেও খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। চিকিৎসকেরা এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
নতুন চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের পর তাঁদের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, “আপনারা মানুষের জন্য ভালো কিছু করবেন, সমাজের জন্য ভালো কিছু করবেন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাছুম হাছানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। এ সময় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















