মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের মানসিক অঙ্গীকারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ : মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:০২:৫৬ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক : মা ইলিশ রক্ষায় শুধু আইন প্রয়োগ, পুলিশ ও কোস্টগার্ড মোতায়েন কিংবা সরকারি সহায়তা প্রদানই যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে জেলেদের মানসিক অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দাসাদি গ্রামের বড় খান বাড়ির মাঠে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। অন্যদিকে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ আহরণ করা হলে পরবর্তী বছর ইলিশের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রজাতিটির ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
জেলেদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা সরাসরি ইলিশ আহরণের সঙ্গে যুক্ত। ফলে ইলিশের জীবনচক্র, প্রজনন ও সংরক্ষণ সম্পর্কে আপনাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিলে আগামী বছরও ইলিশ পাওয়া যাবে। তাই মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি।
চাঁদপুরের ইলিশের ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় এ অঞ্চলে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত। ইলিশ পরিবহন ও সংরক্ষণের জন্য এখানে অনেক বরফকল ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় সেই কর্মচাঞ্চল্যও অনেকটা হারিয়ে গেছে। ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে হলে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করতে হবে।
সরকারি সহায়তার গুরুত্ব স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, জেলেদের ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হলেও তাঁদের নিজেদের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ ছাড়া ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “আপনি যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত না হন যে মা ইলিশ ধরবেন না, তাহলে ২৫ কেজি কেন, ১০০ কেজি চাল দিলেও সমস্যার সমাধান হবে না।”
মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকার সময়ে জেলেদের আর্থিক সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ সময়ে জেলে পরিবারগুলোকে সংসার চালাতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেককে ঋণ নিতে হয়, যা তাঁদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তোলে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শুধু সাময়িক সহায়তার ওপর নির্ভর না করে জেলেদের জন্য টেকসই বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সরকার চিন্তা করছে।
চাঁদপুরের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার কথা তুলে ধরে তিনি নদীর পানিকে সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে প্রচলিত পদ্ধতিতে পুকুরে মাছ চাষ সব সময় সহজ নয়। বর্ষায় পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে মাছ ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে নদীতে খাঁচায় মাছ চাষসহ আধুনিক ও উপযোগী প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকার ও জেলেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি জেলেদের নিজেদের ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখা গেলে ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়বে। এর সুফল ভোগ করবেন জেলে পরিবারসহ দেশের মৎস্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম উল্যা সেলিম। এ সময় স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করেন।



















