ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গোপালগঞ্জের তিন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ : বছরে ২২ কোটি টাকার সুপারি বিক্রি চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের (সিজন-২) উদ্বোধন রাজিবপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে জেলা এস্তেমা বন্ধের দাবিতে প্রতিপক্ষের মানববন্ধন, জেলা প্রশাসক বরাবরের স্মারকলিপি প্রদান সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত গ্রামবাসীর ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত এম শহীদ কান্নায় ভেঙে পড়লেন ঢাকার বসুন্ধরায় ৩ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু সারের সংকট নেই নীতিমালার বাইরে হলে বাতিল হতে পারে ডিলারের লাইসেন্স : কৃষিমন্ত্রী গোবিপ্রবিতে ৯ম জাতীয় মার্কেটিং দিবস পালিত

মেহেরপুরে ৫০ বছরের পুরোনো সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর জায়গা দখল, বিধবা বোনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:৫২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশেষ প্রতিনিধি, মেহেরপুর : স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৫৩ দিন গুম, ৯ মাস কারাগারে থাকা আলোচিত সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের মেহেরপুর শহরের পৈতৃক বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মেহেরপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ হামিদ সড়কে অবস্থিত ওই বাড়ির প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা, পরিবারের সদস্যকে ভয় দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া এবং সর্বশেষ বাড়ির আঙিনায় তাঁর মায়ের হাতে লাগানো একাধিক বড় নারকেলগাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত দের বিরুদ্ধে।

সাংবাদিক কাজলের অভিযোগ, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের নাম ও তাঁর সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কের দোহাই দিয়ে আবদুল করিম ওরফে গুড়ু, মতিউর রহমান, বিল্টু, মন্টু এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন তাঁর পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি দখলন করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল এবং তাঁর ভাই শহিদুল ইসলাম শাহিন দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় তাঁদের পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করছেন তাঁদের বিধবা বোন। এই সুযোগে বাড়িটির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে সম্পত্তির দখল নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

কাজলের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সীমানাপ্রাচীর ভাঙার সময় তাঁর বোন বাধা দিতে গেলে তাঁকে প্রকাশ্যেন ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এ সময় নিজেদের সঙ্গে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের আত্মীয়তার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তাঁরা ক্ষমতার দাপট দেখান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, হুমকিদাতারা তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, কামরুল ইসলাম তাঁদের বেয়াই এবং তাঁরা এখন ক্ষমতাসীন পক্ষের লোক। তাঁদের কাজে বাধা দিলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে—এমন হুমকিও দেয়া হয় বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক কাজল।

সীমানাপ্রাচীরের পর এবার মায়ের লাগানো নারকেলগাছ কেটেনেওয়ার ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিক কাজলের দাবি, সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনার পরও অভিযুক্ত পক্ষের তৎপরতা থামেনি। গত জুন মাসে ১১ তারিখে প্রথমে সীমানা প্রাচীর ভালো হয়। হতব১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁর পৈতৃক বসতভিটার আঙিনায় তাঁর মায়ের হাতে লাগানো বড় বড় কয়েকটি নারকেলগাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি জানান, গাছগুলো শুধু ফলদ বৃক্ষই ছিল না, সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল তাঁর মায়ের স্মৃতি ও পরিবারের দীর্ঘদিনের আবেগ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের পুরুষ সদস্যরা প্রবাসে থাকার সুযোগ নিয়ে তাঁদের সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কাজলের অভিযোগ, সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা এবং গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল জানান, অভিযোগের বিষয়ে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। কাজলের দাবি, কামরুল ইসলাম বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

কাজল আরও জানান, তিনি প্রবাস থেকে মেহেরপুর জেলা পুলিশের একজন সহকারী পুলিশ সুপারকে ফোন করে ঘটনাটি অবহিত করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে—পৈতৃক সম্পত্তি ভাঙচুর, গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া এবং আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ কিন্তু আসামীদের কাউকেই গ্রেপ্তার করেনি।

যেখানে কথা বলা বা দেয়ালে লেখা মুছে ফেলার অপরাধে পুলিশ গ্রেপ্তার করে সেখানে এখানে একজন আলোচিত গুম ভিকটিম সাংবাদিকের বাড়ির জায়গা দখল প্রাচীর ভাঙার অপরাধী পুলিশ কিছুই করছে না ।

তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তাঁর পৈতৃক বাড়ি দখলের চেষ্টা হয়েছিল। সে সময় বাড়ি ভাঙচুর এবং তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও সাবেক পৌর মেয়র মোতাসিম বিল্লাহ মতুর নাম উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতের ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল এবং বর্তমানেও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সম্পত্তি দখলের চেষ্টাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন।

তবে অতীতের এসব অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং বর্তমান ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে কারও দায় চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

 

নিজের পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করে শফিকুল ইসলাম কাজল বলেন, “আমার মায়ের হাতে লাগানো নারকেলগাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য জোর করে আমাদের জায়গা দখল করে নেওয়া। আমাদের বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ থাকে না। থানায় গিয়ে অভিযোগ করার মতো লোকও নেই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল এবং তাঁকে হত্যার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন গুম থাকার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য সংবাদ প্রকাশ ও তৎকালীন সরকারের অনিয়ম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাঁকে ৫৩ দিন গুম থাকতে হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।

কাজলের ভাষ্য, অতীতে যে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তিনি তুলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নিজের পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে তাঁকে একই ধরনের নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :