হেমন্তের বুকে শীতের পরশ: পঞ্চগড়ে রেকর্ড ১৫.৪ ডিগ্রি, দিন-রাতের তাপমাত্রায় তুমুল বৈপরীত্য
- আপডেট সময় : ০৫:৪৭:০৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
পঞ্চগড় প্রতিনিধি : ঋতুচক্রের হিসেবে কাগজে-কলমে এখন হেমন্তকাল। শীতের আনুষ্ঠানিক আগমনী বার্তা বাজতে এখনও মাসখানেক বাকি। তবে হিমালয়ের কোলঘেঁষা দেশের সর্ব উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড়ে এবার বেশ আগেভাগেই কড়া নাড়তে শুরু করেছে শীত। দিনে কড়া রোদ আর রাতে হিমেল হাওয়া—প্রকৃতির এমন দ্বিমুখী আচরণের মধ্যেই আজ মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
বর্তমানে পঞ্চগড়ের প্রকৃতিতে চলছে দিন ও রাতের তাপমাত্রার এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তীব্র আলো আর গরম অনুভূত হলেও, বিকেল গড়াতেই পাল্টে যাচ্ছে দৃশ্যপট। সন্ধ্যা নামলেই উত্তর দিক থেকে বয়ে আসছে হিমেল হাওয়া। মাঝরাত থেকে ভোর পর্যন্ত জেঁকে বসছে শীত, যা স্থায়ী হচ্ছে সূর্যোদয় পর্যন্ত। গতকাল সোমবারও যেখানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে রাতের ব্যবধানে তা প্রায় অর্ধেক কমে ভোরে এসে ঠেকেছে ১৫ দশমিক ৭ এবং সর্বশেষ সকাল ৯টায় ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আজ সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ, যা ঘন কুয়াশার জানান দিচ্ছে।
হেমন্তের এই আগাম শীতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার ইজিবাইক চালক আজিজুল ইসলাম জানান, “গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বেশ বাড়ছে। কিছুদিন আগেও এমন ছিল না। এখন সকালে ভ্যান নিয়ে বের হতে হলে হালকা শীতের কাপড় গায়ে দিতে হচ্ছে, সকালে গাড়ি চালাতেও বেশ কষ্ট হচ্ছে।”
শহরের বাসিন্দা মকছেদুল ইসলামের কণ্ঠেও একই সুর। তিনি বলেন, “পুরোদমে শীত আসতে আরও ২০-২৫ দিন বাকি থাকলেও শীতের অনুভূতি এখনই কড়া নাড়ছে। সন্ধ্যার পর হালকা গরম কাপড় ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো যায় না। ১০-১৫ দিন আগেই ঘরের ফ্যান বন্ধ করে দিয়েছি, এখন রাতে পাতলা কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে।”
এদিকে আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় হিমালয়ের হিম বায়ু সরাসরি এ অঞ্চলে প্রবেশ করায় তাপমাত্রা দ্রুত কমছে বলে জানিয়েছেন তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায়। তিনি জানান, বর্তমানে শীতের যে আবহ তৈরি হয়েছে তা নভেম্বরের শুরুতে আরও বাড়তে পারে। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বৃষ্টি বলয় কেটে গেলে জেলায় শীতের তীব্রতা পুরোদমে জেঁকে বসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।



















