তেঁতুলিয়ায় ৬৮ বছরের ভোগদখলীয় ৬৪ শতক জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:১০:২০ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
মোঃ সোহরাব আলী, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা ১৯৬২ সালের রেকর্ডীয় এস এ ১০নং খতিয়ান ভক্ত ৬৬৩ দাগে ৬৪ শতক জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আকবর আলি, জাহিরুল ইসলাম, সাহেব আলী, আব্দুর রাজ্জাক লেদুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম এর পরিবার। একই সঙ্গে জমি রক্ষা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।
বুধবার ৪ নভেম্বর দুপুরে তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের মাথাফাটা বাজারে পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব অভিযোগ তুলে ধরেন পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ উপস্থিত ছিলেন মৃত আবুল গিরির স্ত্রী আলহাজ্ব তহুরা বেগম মোঃ রবিউল ইসলাম, মোঃ মোখলেসুর রহমান মোঃ সুরুজ আলী, সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
তাদের দাবি , ১৯৬২ সালের রেকর্ডীয় ৬৪ শতক জমি তাঁরা প্রায় ৬৮ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি আকবর আলী, আব্দুর রাজ্জাক লেদু, সহ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী, লাঠিয়াল বাহিনী ও মহিলা শিশুদেরকে নিয়ে ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। এতে পরিবারটির সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জমির কাগজপত্র ও আইনগত বিষয় উপেক্ষা করে পেশিশক্তির মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা করা হলে তা আইনের শাসনের পরিপন্থী। তাঁরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ প্রতিকার চান।
তাঁরা আরও বলেন, জমি নিয়ে কোনো ধরনের সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চান না তাঁরা। জমির প্রকৃত মালিকানা ও রেকর্ডপত্র যাচাই করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই তাঁদের প্রত্যাশা। পাশাপাশি জমিতে অবৈধ প্রবেশ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দখলের অপচেষ্টা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরে পরিবারটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—১৯৬২ সালের রেকর্ডীয় ৬৪ শতক জমির কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, জমি জবরদখলের চেষ্টা বন্ধ, পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তাও দাবি করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়িয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিজেদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান।



















