পাসের হার ৪৮.০৪ শতাংশ, শূন্য পাস ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
- আপডেট সময় : ১২:২৭:০৬ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
মোঃ ইয়াছিন মিয়া, কুমিল্লা প্রতিনিধি : গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। পাশাপাশি বেড়েছে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবং পরীক্ষায় বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। সব মিলিয়ে বোর্ডটির এবারের ফলাফল শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৪৪২ জন এবং ছাত্রী ৮৭১ জন। অথচ ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ হাজার ৯০৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৫৯৬ জন।
এর আগে ২০২৪ সালে ৭ হাজার ৯২২ জন, ২০২৩ সালে ৫ হাজার ৬৫৫ জন এবং ২০২২ সালে ১৪ হাজার ৯৯১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানে এবারই সর্বনিম্ন সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
শুধু জিপিএ-৫ নয়, সামগ্রিক পাসের হারেও নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশে। চলতি বছর আরও কমে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিও সর্বনিম্ন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবারও পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্রদের পাসের হার ৬১ দশমিক ০১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬৬ শতাংশ।
অন্যদিকে মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৩৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৪৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার আরও কম, মাত্র ৪০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৩৫ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৪৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
ফলাফলে দেখা গেছে, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিনটি বিভাগেই ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের তুলনায় বেশি। তবে বিজ্ঞান বিভাগের সঙ্গে অন্য দুটি বিভাগের পাসের হারে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।
এবারের ফলাফলে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরিসংখ্যানে। শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র চারটিতে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল পাঁচটি এবং ২০২৪ সালে ছিল ১০টি।
অন্যদিকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫টি। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯টি এবং ২০২৪ সালে ছিল চারটি। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। এ চিত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান, শিক্ষার মান ও সার্বিক তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এদিকে এইচএসসি পরীক্ষায় বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৬ সালে কুমিল্লা বোর্ডে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের কারণে বহিষ্কৃত হয়েছে ৬৯ জন শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৬ এবং ২০২৪ সালে ছিল ৫৭ জন। গত তিন বছরের পরিসংখ্যানে বহিষ্কারের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ার চিত্র পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।











