কুমিল্লায় নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরে মিলল ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ
- আপডেট সময় : ০৬:২৩:০৬ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার বুড়িচংয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর আদনান আলতাফ (ভারতীয় নাগরিক) নামে এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার ৪অক্টোবর সকালে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের পশ্চিম মনিপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আদনান কুমিল্লার কাবিলা এলাকায় অবস্থিত ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সুপুর এলাকায়।
পুকুরের পানিতে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ ভেসে ওঠার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের দূরত্ব প্রায় ৫০০ গজ।
পরিবার জানায়, গত সোমবার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে একটি ইন্ডিয়ান ফুড হোটেলে যান আদনান। সেখান থেকে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর সন্ধান চেয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, আদনানকে চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয়েছিল। পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া ও একাধিকবার পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার কারণে তাঁকে মানসিকভাবে সাহস জোগাতে তাঁর মা বাংলাদেশে এসেছিলেন। ছেলের পাশে থেকে তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই এমন মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, তা কল্পনাও করেননি পরিবারের সদস্যরা।
সহপাঠীরা জানান, আদনান কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ কারণে তাঁর পড়াশোনা অনিয়মিত হয়ে পড়ে। অন্য সহপাঠীরা চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ করলেও তিনি এখনো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
কুমিল্লা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম জানান, আদনানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নিখোঁজ হওয়ার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁর সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি করে।
এদিকে, শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করে। পরে বুধবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুকুরে মরদেহ ভেসে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা উদ্ধার করে।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা—সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।



















