কুমিল্লায় এসআরবির অভিযানে ১৯ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৬:২৭:৫৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকার ইলিশ মাছবোঝাই পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার ইদ্রিস মিয়াকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১১ (এসআরবি)। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির ১৯টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে রাজধানীর শনির আখড়া এলাকা থেকে এসআরবি-১১-এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-২ (সিপিসি-২), কুমিল্লা এবং এসআরবি-১০-এর সিপিসি-১, যাত্রাবাড়ীর যৌথ আভিযানিক দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
বুধবার ৪ নভেম্বর এসআরবি-১১, সিপিসি-২-এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নেয়ামতপুর এলাকায় মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। লক্ষ্মীপুর সদর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট থেকে ইলিশ মাছ কিনে পিকআপযোগে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করছিলেন।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে পিকআপটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে একটি সাদা রঙের পিকআপ দিয়ে তাঁদের গাড়ির গতিরোধ করে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল। এ সময় ডাকাতরা দেশিয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাছ ব্যবসায়ী, চালক ও তাঁর সহযোগীকে মারধর করে। পরে তাঁদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলিশ মাছবোঝাই পিকআপ এবং ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ৭১ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় একটি ডাকাতি মামলা করেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এরপর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এসআরবি।
এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার ইদ্রিস মিয়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক অনুসন্ধান, জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও পুলিশি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতির ১৯টি মামলা রয়েছে। তিনি আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার হিসেবে পরিচিত।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ইদ্রিস মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা বিদেশফেরত প্রবাসী এবং ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করতেন। ডাকাতির বাইরে তাঁর নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস নেই বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডাকাতির ঘটনার পর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি আরও জানায়,গ্রেপ্তার ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



















