কুমিল্লা প্রতিনিধি : স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তর বিনই,রমাবল্লভ পুর, লাকসাম পৌরসভার কৃতি সন্তান গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আজও তিনি যুদ্ধদিনের স্মৃতি বুকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) অফিস এলাকায় কান পরিষ্কারের কাজ করে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
জানা গেছে, লাকসাম উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বিনয় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রুহুল আমিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন। সেই সেক্টরের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম আলমগীর।
দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করলেও আজ পর্যন্ত সরকারি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম ওঠেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন রুহুল আমিন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও বারবার নানা জটিলতায় তার আবেদন আটকে আছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই মুক্তিযোদ্ধা এখন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
রুহুল আমিন বলেন,
“দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা এনেছি। কিন্তু আজও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইনি। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন আমাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রুহুল আমিনের জীবনযুদ্ধ অত্যন্ত কষ্টের। প্রতিদিন কুমিল্লা ডিসি অফিস এলাকায় বসে কান পরিষ্কারের কাজ করে সামান্য আয় করেন তিনি। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই দ্রুত যাচাই-বাছাই করে রুহুল আমিনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের মতো অনেকেই এখনও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় আছেন। স্বাধীনতার এত বছর পরও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিকার জন্য পথে বসে কাজ করতে হওয়া জাতির জন্যও বেদনাদায়ক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।