স্ত্রীর অসম্ভব ভালোবাসা সীনামাকে হাড়
- আপডেট সময় : ১০:৩২:২৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, পঞ্চগড় : পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারীতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রেললাইনে কাটা পড়ে মারা গেছেন তার স্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্বামীর প্রতি ভালোবাসা ও মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে রেললাইনে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন নিত্যবালা বর্মণ।
পরে একই দিনে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়।
মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া দম্পতি হচ্ছেন ওই এলাকার হরেন্দ্রনাথ বর্মন (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্যবালা বর্মন (৫০)। হরেন্দ্রনাথ বাড়ির পাশের মন্দিরের পূজারী ছিলেন। তার সঙ্গে স্ত্রীও নিয়মিত পূজারী ছিলেন।
মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে বাড়ির পাশে নিজেদের ফসলির জমিতে করা শ্মশানে পাশাপাশি দুই চিতায় পোড়ানো হয় স্বামী ও স্ত্রীকে।
এই ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে হরেন্দ্রনাথ বর্মন (৮২) বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। পরে গভীর রাত পর্যন্ত স্ত্রী নিত্যবালা স্বামীর লাশের পাশে বসে কান্নাকাটি করতে থাকেন। মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির পাশে রেললাইনে শুয়ে পড়েন নিত্যবালা। এসময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড় অভিমুখী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস নিত্যবালার শরীরের ওপর দিয়ে যায়। এতে তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় হাঁটতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে স্বজনরা তার মরদেহ উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসেন। পরে সকাল ৮টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ পাশাপাশি চিতা করে পোড়ানো হয়েছে।
নিহতদের ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, আমার বাবা অনেকদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান। আমার মা-বাবাকে অনেক ভালোবাসতেন। তিনি সারারাত বাবার পাশে বসে কেঁদেছিলেন। আমরাও সবাই জেগেছিলাম। বাসা ভর্তি আত্মীয়-স্বজন ছিল। এরই মধ্যে সকালে মা বাড়ির বাইরে বের হন। পরে অনেকক্ষণ ধরে তিনি নাই। তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
এ দিকে আত্মীয় স্বজনরা সকালে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় একজনকে লাইনে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখতে পান। পরে কাছে গিয়ে দেখা যায় আমার মা সেখানে মারা গেছেন। পরে আমরা তার মরদেহ বাসায় নিয়ে আসি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুইজনের মরদেহ দাহ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন- স্বামীর শোকে স্ত্রীর আত্মাহুতি সনাতনীদের মাঝে বিরল ঘটনা। বর্তমান যুগে স্বামীর প্রতি এমন ভালোবাসা স্ত্রীদের মধ্যে দেখা যায় না। তবে মাত্র ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি হৃদয় বিদারক।
যতীন চন্দ্র বর্মণ নামে এক প্রতিবেশী বলেন, তারা আমার কাকা-কাকি। আমি ছোট বেলা থেকে দেখতাম কাকি কাকাকে অনেক ভালোবাসতেন। আজকে স্বামী চলে গেছেন বলে তার শোক সইতে না পেরে তিনি ট্রেনের নিচে আত্মাহুতি দিলেন। আসলে এই শোক সইবার মতো অবস্থা পরিবারের সদস্যদের নেই। আমরা তাদের স্বর্গবাস কামনা করছি।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত হয়েছি। যেহেতু বিষয়টি রেললাইনে কাটা পড়ে মারা যাওয়া এ কারণে রেলওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।




















