ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোপালগঞ্জে জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠান শুরু  গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু সাতক্ষীরা এইচএসসি পরীক্ষায় দুই কলেজে পাস করেনি কেউ সাতক্ষীরা ‎উপকূলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার প্রতি ৩ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ তথ্য সংগ্রহকারী বর্ণা ও তার স্বামী বিদ্যুৎ সরকারের বিরুদ্ধে ‎তালায় নারীর প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সংলাপ সভা শাল্লায় দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মন্নার মিয়ার মৃত্যু, আহত অন্তত ১৫ পাসের হার ৪৮.০৪ শতাংশ, শূন্য পাস ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানে শ্রমিকদের সঙ্গে মাঠে সিটি প্রশাসক টিপু বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুবদলের ভূমিকা দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

সাতক্ষীরা ‎উপকূলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪০:৪৫ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ‎দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের জেলা সাতক্ষীরা যেন প্রকৃতি ও প্রতিকূলতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। একপাশে বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের নীরব বিস্তার, অন্যপাশে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় ক্ষতবিক্ষত জনপদ। ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, লোনা পানির তীব্রতা আর বেড়িবাঁধ ভাঙার আতঙ্কের মধ্যেও এ অঞ্চলের মানুষ হার মানেনি। সাতক্ষীরার রূপালী ‘সাদা সোনা’ চিংড়ি, সুস্বাদু জিআই আম আর কৃষকদের ঘামে ভেজা ফলন দেশের অর্থনীতিকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে চলেছে।

‎প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য আর সম্ভাবনায় ভরপুর এই জনপদে ‘সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ চালুর উদ্যোগ কেবল উচ্চশিক্ষার একটি নতুন ঠিকানা তৈরি নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতি ও জীবনের বৈজ্ঞানিক রূপান্তরের এক বড় সুযোগ।

‎একটি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গবেষণাগারে নিয়ে আসা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে প্রথাগতভাবে চলে আসা কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।

‎আমাদের সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় বিশ্বমানের গবেষণা দরকার। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের এই যুগে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে উপকূলীয় জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার এক বাস্তবমুখী ল্যাবরেটরি।

‎কৃষিতে লোনা পানির অনুপ্রবেশ এখন সবচেয়ে বড় হুমকি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হাত ধরে যদি লবণাক্ততা-সহনশীল নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবন করা যায়, তবে তা কেবল সাতক্ষীরা নয়, পুরো দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের খাদ্য নিরাপত্তায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

‎বিশ্ববাজারে আমাদের চিংড়ি ও আমের বিশাল চাহিদা থাকলেও প্রথাগত চাষাবাদ ও উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পান না। ব্লু-ইকোনমি, মৎস্য বিজ্ঞান ও ফুড টেকনোলজির আধুনিক গবেষণা যুক্ত হলে এ দুটি সম্ভাবনাময় খাতের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্থানীয় পণ্যের মান ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়বে।

‎উচ্চশিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থানীয় যুবসমাজকে বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করবে। তরুণ গবেষক ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে এলাকার অর্থনীতি পাবে নতুন গতি।

‎সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল কয়েকটি ভবনের সমষ্টি নয়; এটি অবহেলিত উপকূলের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, টিকে থাকার লড়াই এবং এক টেকসই ভবিষ্যতের প্রতীক। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম চালুর মধ্য দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক দরবারে তুলে ধরবে—এটাই এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষের প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :