৪০ কোটির প্রকল্পে ৮৭ কোটি ব্যয় ৩৮ কোটি লুটপাটের অভিযোগ, ৫ দফা দাবিতে জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০১:৩৫:৪৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর ব্রিজ ও সড়কের নির্মাণাধীন সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি। একইসাথে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে সাব-ঠিকাদার মিথ্যার অভিযোগের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
সোমবার ২ নভেম্বর সকাল ১১ টায় জেলা বিএনপির আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সদস্য (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) এডভোকেট মোঃ আব্দুল হক।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর সালামপুর ব্রিজের ১ ও ২ নং এবং প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও গার্ড ওয়াল নির্মাণে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার কাজ চলমান রয়েছে।
এই কাজের মূল ঠিকাদার ছিলেন ঢাকার প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্সের মালিক বদরুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে প্রথমে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আজাদ হোসেন এবং পরে মতবিরোধের জেরে আরেক আওয়ামী নেতা ও বহু মামলার আসামি শফিকুল ইসলামকে সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
জেলা বিএনপি জানায়, গত ২৭ অক্টোবর বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁও হাইস্কুলের একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে স্থানীয় জনগণ এমপি নুরুল ইসলাম নুরুলকে দাঁড় করিয়ে কাজের অনিয়মের অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি নিজেও দেখতে পান সদ্য নির্মিত গার্ড ওয়াল একদিকে হেলে পড়েছে, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, মাটি কম্পেকশন ছাড়াই জিও টেক্সটাইলের উপর ব্লক বসানো হয়েছে এবং ভিট বালুর পরিবর্তে কৃষি জমির টপ সয়েল ব্যবহার করা হয়েছে।
এমপি পরের দিন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সাইট পরিদর্শনের ঘোষণা দিলে ওই দিনই সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এমপির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিএনপি এ ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও তথ্য সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, বাস্তবে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্পে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখিয়ে ওভার এস্টিমেট করা হয়েছে। যেখানে ৭ লাখ ঘনফুট মাটির প্রয়োজন, সেখানে ৫৬ লাখ ঘনফুট দেখানো হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা বিল উত্তোলন করে লুটপাট করা হয়েছে এবং জনসম্মুখে প্রকল্পের কোন সাইনবোর্ডও প্রদর্শন করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ৫ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হল দুর্নীতির পরিকল্পনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, ওভার ভ্যালু দেখানো অতিরিক্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত আনা, নিম্নমানের কাজ বাতিল করে মানসম্পন্ন সামগ্রী দিয়ে নতুন করে কাজ করা,দায়িত্বে অবহেলাকারী সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চলমান সব কাজের দুর্নীতি অনুসন্ধান করা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,জেলা বিএনপি নেতা নাদের আহমেদ, আকবর আলী, আতম মিছবাজ,রেজাউল হক,এডভোকেট শেরেনুর আলী প্রমুখ।















