সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির করলে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে : কৃষিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১০:২৬:৩৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৮৪ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মন্ত্রী বলেছেন, সার নিয়ে সংকটের যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মঙ্গলবার ২৮ জুলাই গাজীপুরের জয়দেবপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইনে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে এবং সার সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।
তিনি বলেন, কোনো পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি না থাকলে দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ার কথা নয়। বাজারে পণ্য থাকা সত্ত্বেও দাম বৃদ্ধির পেছনে কী ধরনের মেকানিজম কাজ করছে তা খুঁজে বের করতে হবে।
কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ও সংস্থাকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রয়োজন ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী গবেষণা করতে হবে। কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসছে।
মন্ত্রী জানান, হাওর অঞ্চলের আগাম বন্যায় কৃষকদের ক্ষতি কমাতে নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে। আগামী মৌসুমে হাওর এলাকায় প্রায় ৩০ টন ব্রি-১১৮ ধানের বীজ সরবরাহ করা হবে। এতে কৃষকরা আগাম ধান কাটার সুযোগ পাবেন এবং বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবেন।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিপণ্যকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এজন্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক প্যাকেজিং, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি গবেষণাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আগামী দিনের খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।



















