সময়মতো ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছাতে হবে : কৃষিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৭:১২:০৪ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেন, কৃষক সময়মতো প্রয়োজনীয় সার না পেলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে, উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তাই সার সংগ্রহ, মজুদ, পরিবহন ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে সমন্বয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
রবিবার ১লা নভেম্বর রাজধানীর গাবতলীতে ৬ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সার গুদাম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শুধু গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুদ রাখলেই হবে না, তা যথাসময়ে কৃষকের হাতে পৌঁছে দেয়াও নিশ্চিত করতে হবে। সার মজুদ ও বিতরণের হিসাব নিয়মিত যাচাই করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, অপচয় কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না। সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
সার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) প্রায় ২০০টি গুদামে দৈনিক সার প্রবেশ ও সরবরাহের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছাতে হবে। এর ফলে সার মজুদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ফসলের বৈচিত্র্য ও উৎপাদন মৌসুম বৃদ্ধি পাওয়ায় সারের চাহিদাও বাড়ছে। বাংলাদেশে সার অত্যন্ত ভর্তুকিনির্ভর একটি কৃষি উপকরণ। তাই সরকারি ভর্তুকির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে।
মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ ও সুষম সার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত মাটি পরীক্ষা এবং মাটির উর্বরতা বিবেচনা না করে সার ব্যবহারের ফলে মাটির অম্লতার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। মাটির অম্লতা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে সরকার দেশব্যাপী মাটি উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ চলছে। মাটির গুণাগুণ বিবেচনায় নিয়ে সার ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সারের চাহিদা কমবে এবং তুলনামূলক কম সার প্রয়োগ করেও অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।
বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে মানসম্মত বীজ ও সার পৌঁছে দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। সততা, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহির সঙ্গে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। কৃষকের স্বার্থ, দেশের প্রয়োজন এবং আগামী প্রজন্মের কল্যাণে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম।
এর আগে কৃষিমন্ত্রী ৬ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সার গুদামের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন।



















