নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কারিগরি শিক্ষায় দেশকে এগিয়ে নিতে হবে : কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ
- আপডেট সময় : ১২:১৮:১৬ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা প্রতিনিধি : কৃষি কাজে কোনো লজ্জা নেই উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন, দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, “মাঠে যেতে হবে এবং নিজের ফসল নিজেকেই উৎপাদন করতে হবে। আমরা গরুর দুধ খাই, মাংস খাই; তাহলে গরুর গোবর ফেলতে কিসের লজ্জা?”
শনিবার ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইন্সটিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে ‘টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনের জন্য পৃথিবীর অন্যতম উর্বর স্থান। এ দেশের মাটি, বাতাস, আলো ও বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক সম্পদ কৃষির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষও পরিশ্রমী। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিকে আরও আধুনিক ও উৎপাদনশীল করতে হবে।
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ফসলে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। আগামীর প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই। পৃথিবীতে খাদ্যের অভাব না থাকলেও নিরাপদ খাদ্যের ঘাটতি রয়েছে। তাই কৃষিতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে হবে।
কৃষিপণ্যের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত বিদেশ থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে বর্তমানে কাঁচা মরিচ, গাজর ও টমেটোর মতো কিছু কৃষিপণ্য আমদানি করতে হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “সে দিন বেশি দূরে নয়, যেদিন এসব পণ্য আর আমদানি করতে হবে না; বরং আমরাই এসব পণ্য রপ্তানি করব, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছুটির দিনে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবাকে কৃষিকাজে সহযোগিতা করছে—এ দৃশ্য তাকে দারুণভাবে আশাবাদী করেছে। কৃষির সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের সম্পৃক্ততা দেশের কৃষির ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃষিমন্ত্রী মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী।
এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়া কুমিল্লা টাউনহলের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল কবীর, কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম রায়হান, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছের, লিবারেল আর্টস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আলী হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



















