ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতক্ষীরায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর একাধিক মামলার আসামি আসাদুলের জামিন আবেদন তালার নগরঘাটায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের খেলোয়াড় বাছাই পর্ব উদ্বোধন মাভাবিপ্রবির আইসিটি সেলের নতুন পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম মিয়া দক্ষিণ গফরগাঁও অবৈধ ড্রামচিমনি বিশিষ্ট তিনটি ইট বাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সাতক্ষীরা ‘ল’ কলেজে প্রবেশপত্র দেয়ার নামে চলছে অর্থ বানিজ্য ! পলাশ কুন্ডু থেকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তকমা পাওয়া এখন অপপ্রচারের শিকার মাস্টারপ্ল্যানে বদলে যাবে কুমিল্লা নগরী, আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর গড়ার উদ্যোগ তেঁতুলিয়ায় হা-ডু-ডু টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ককটেল ও রামদাসহ গ্রেপ্তার ২ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহনের সময় ৮০ বস্তা সার জব্দ, ডিলারসহ দুজনের কারাদণ্ড

হাওরের ঋতু বদল : কার্তিকে দিরাই-শাল্লার মাঠে মাঠে রুক্ষ রূপ, খেয়াঘাটে নোঙর ফেলে থমকে গেছে জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তৌফিকুর রহমান তাহের : বর্ষার দিগন্তজোড়া থইথই পানি আর বিশাল ঢেউয়ের সেই চেনা রূপ এখন আর নেই। আশ্বিন গড়িয়ে কার্তিক আসতেই সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিস্তৃত হাওরাঞ্চল ধারণ করেছে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা,একদম রুক্ষ ও পানিশূন্য। বর্ষায় যে হাওরে উত্তাল তরঙ্গে নৌকা চলেছে অবাধে, সেই হাওর এখন শুধুই এক শুষ্ক, ফাটলধরা বিস্তীর্ণ প্রান্তর হাওরপাড়ের এই কার্তিক মাস কেবল ঋতুর রূপ বদলই আনে না, নিয়ে আসে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এক চরম অস্বস্তি ও কষ্টের প্রহর।

কার্তিকের এই সময়টাতে হাওরের নিম্নাঞ্চলগুলো থেকে পানি খুব দ্রুত নেমে যায়। ফলে পানি কমে গিয়ে ডিঙ্গি বা ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচলের পথ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে।

অনেক স্থানে কাদামাটি ও পলি জমে খাল-বিল শুকিয়ে চরা জেগে উঠেছে।

অন্যদিকে, কাদা পুরোপুরি না শুকানোয় এবং বিস্তীর্ণ হাওরে যোগাযোগব্যবস্থা বা পাকা রাস্তা না থাকায় হেঁটে যাতায়াত করাও চরম দুষ্কর হয়ে পড়েছে। হাঁটু সমান কাদা আর অসমতল শুকনা মাটির কারণে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে হেঁটে যাওয়া যেন এক অসাধ্য সাধন। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, হাট-বাজারগামী সাধারণ মানুষ এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশীরা।

পানিশূন্য রুক্ষ হাওরের বুক থেকে উঠে আসা ভ্যাপসা গরমে হাঁপিয়ে ওঠে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।

সূর্য ডোবার পরপরই নামতে শুরু করে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া। শেষ রাতে রীতিমতো শীতের ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।

দিনের এই প্রখর রোদ আর রাতের হঠাৎ ঠাণ্ডা—আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালিপনায় হাওরপাড়ের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে ঋতু পরিবর্তনজনিত নানাবিধ অসুখ-বিসুখ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ফ্লু, ঠান্ডা-কাশি ও জ্বরে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

কার্তিকের এই রুক্ষতা ও কাদা-পানির টানাপোড়েন অবশ্য এক নতুন আশা ও কর্মচাঞ্চল্যেরও ইঙ্গিত দেয়। কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে বোরো ধান চাষের মূল প্রস্তুতি—জমি তৈরি ও বীজতলা তৈরির কাজ। তবে এই খরা ও পানিশূন্যতার মুহূর্তে পরিবহন সংকট এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে ওঠার লড়াইটাই এখন দিরাই-শাল্লার হাওরবাসীদের মূল চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে কার্তিকের এই প্রখর রোদ, হঠাৎ শীতল হাওয়া আর শুকিয়ে যাওয়া পথঘাট হাওরবাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতির চেনা নিয়মে সামনেই আসছে আরও এক নতুন সংগ্রামের দিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :