ব্লাড ক্যান্সার রোগীদের জন্য ডোনার ডেটাবেস গড়ার উদ্যোগ ইফতি আজাদ ও তানাফ হোসেনের
- আপডেট সময় : ১১:৫২:১০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সম্ভাব্য স্টেম সেল ও বোন ম্যারো ডোনার খুঁজে পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ, কার্যকর ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে একটি মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ স্টেম সেল ডোনার ফাউন্ডেশন (BSCDF)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইফতি আজাদ এবং Red Life Blood Bank-এর প্রতিষ্ঠাতা তানাফ হোসেন।
উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো একটি বৃহৎ, নির্ভরযোগ্য ও সুসংগঠিত Stem Cell & Bone Marrow Donor Database গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা ও মাল্টিপল মায়েলোমাসহ বিভিন্ন ধরনের ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সম্ভাব্য ডোনার খুঁজে পেতে সহায়তা করা হবে।
স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টের ক্ষেত্রে রোগী ও ডোনারের HLA (Human Leukocyte Antigen) ম্যাচিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে শুধু রক্তের গ্রুপের ওপর নির্ভর না করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপযুক্ত ডোনার শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
Red Life Blood Bank-এর প্রতিষ্ঠাতা তানাফ হোসেন বলেন, “মানবিক সেবার পরিধি শুধু রক্তদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত অনেক রোগীর চিকিৎসায় সম্ভাব্য স্টেম সেল বা বোন ম্যারো ডোনারের প্রয়োজন হতে পারে। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে একটি সুসংগঠিত ডোনার ডেটাবেস গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। আমরা চাই, ভবিষ্যতে কোনো রোগীর পরিবার যেন সম্ভাব্য ডোনার খুঁজতে গিয়ে অসহায় বোধ না করে।”
তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য তরুণ সমাজ, স্বেচ্ছাসেবক, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ স্টেম সেল ডোনার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইফতি আজাদের নেতৃত্বে এ উদ্যোগের আওতায় স্বেচ্ছায় ডোনার নিবন্ধন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডেটাবেসে নিবন্ধন করলেই কেউ নিশ্চিত ডোনার হিসেবে বিবেচিত হন না। ডোনারের উপযুক্ততা HLA ম্যাচিং, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। একই সঙ্গে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের সম্মতি গ্রহণ এবং তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ইফতি আজাদ ও তানাফ হোসেনের এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে স্টেম সেল ও বোন ম্যারো ডোনেশন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সম্ভাব্য ডোনার অনুসন্ধানে একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
মানবিকতা, বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা, তথ্যের সুরক্ষা এবং সবার সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে এ উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।






















