কুমিল্লার দুই কিশোর গ্যাং প্রধান সহ ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:১৯ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে আলোচিত দুই গ্যাং ‘টিম RAW’ ও ‘Crime Setup’-এর নেতৃত্বস্থানীয় চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলা ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে গত ১০ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও ডিবির বিশেষ অভিযান চলছে। এ সময় সন্দেহভাজন দুই হাজারের বেশি কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরাধে সম্পৃক্ততা না পাওয়া অনেক কিশোরকে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের এই অভিযানের ফলে কিশোর গ্যাংয়ের অনেক সদস্য আত্মগোপনে চলে গেলেও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
ইমরান হোসেন রতন (১৯): পিতা—মৃত আবুল কাশেম। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা-সহ মোট ৯টি গুরুতর মামলা রয়েছে। তাকে ‘টিম RAW’-এর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
সাইফুল ইসলাম (২০): পিতা—আক্তার হোসেন মোল্লা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪): পিতা—আব্দুল করিম। তিনি ‘Crime Setup’-এর শীর্ষ নেতা বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।
রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪): পিতা—নাসির উদ্দিন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধেও একটি মামলা রয়েছে।
জেলা পুলিশ বলেন, কুমিল্লায় কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম বন্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি কিংবা গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
একই সঙ্গে সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও সামাজিক যোগাযোগের বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেলা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




















