চরফ্যাশনে আল ইনসাফ ডায়াগনস্টিকে রোগী হয়রানি ও অতিরিক্ত ফি নেয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:৩৬:০৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাশন হাসপাতাল রোডে অবস্থিত আল ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি, বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনলে সিরিয়ালে পিছিয়ে দেয়া এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় তুলনামূলক বেশি টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার ৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর সাত মাস বয়সী শিশু আরহাম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক রবীন তালুকদারকে দেখাতে ৬০০ টাকা ভিজিট পরিশোধ করেন শিশুটির স্বজনরা। পরে চিকিৎসক শিশুটিকে এক্স-রে করানোর পরামর্শ দেন।
শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, এক্স-রে করানোর জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাউন্টারে গেলে পরীক্ষার জন্য তুলনামূলক বেশি টাকা দাবি করা হয়। এ কারণে তারা বাইরে একটি প্রতিষ্ঠানে এক্স-রে করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে আবার আল ইনসাফে ফিরে আসেন।
স্বজনদের দাবি, বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে ফেরার পর তাদের জানানো হয়—ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বাইরে পরীক্ষা করানো রোগীদের অপেক্ষা করতে হবে। আগে সিরিয়াল থাকলেও ওই প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানো রোগীদের চিকিৎসক দেখানোর পর তাদের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় শিশুটিসহ তার স্বজনদের।
এক রোগীর স্বজন বলেন, “আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করাতে চাই। কিন্তু কোথায় পরীক্ষা করাব, সেটি রোগীর বিষয়। বাইরে পরীক্ষা করিয়ে আনলে যদি সিরিয়ালে পিছিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে এটি রোগীদের জন্য হয়রানির মতো।”
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগীর স্বজনের অভিযোগ, একই ধরনের কিছু পরীক্ষা আশপাশের অন্য প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম খরচে করা গেলেও আল ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেশি টাকা নেওয়া হয়। তাদের দাবি, কোনো কোনো পরীক্ষা বাইরে প্রায় ৬০০ টাকায় করা গেলেও সেখানে একই পরীক্ষার জন্য প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক নিয়মিত ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসায় অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে সেখানে আসেন। এই সুযোগে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের বাড়তি ব্যয়ের চাপ নিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, চরফ্যাশন হাসপাতাল রোডের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক রোগী বাধ্য হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হন। এ সুযোগে রোগীদের ওপর অতিরিক্ত পরীক্ষা কিংবা বাড়তি ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করা হলে তা চিকিৎসাসেবার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিশেষ করে শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা হলে তাদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, রোগীর স্বার্থে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরীক্ষা কোথায় করাবেন—সে বিষয়ে রোগী ও স্বজনদের স্বাধীনতাও থাকা উচিত।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার বিল্লাহ। তিনি বলেন, “আমাদের এখানে শিশু চিকিৎসক বসেন। এখানে কিছু পরীক্ষা তুলনামূলক কম হয়। তাই রোগীরা আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করালে ভালো হয়—এ কারণেই আমরা এখানে পরীক্ষা করানোর কথা বলি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চিকিৎসক রবিন তালুকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



















