চরফ্যাশনে ফের ৬ মাসের জন্য আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ স্থগিত অ্যাডভোকেট হিরনের
- আপডেট সময় : ১১:০২:২৭ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ভোলা প্রতিনিধি : ভোলা জেলার চরফ্যাশন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. হযরত আলী হিরনের সদস্যপদ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে চরফ্যাশন আইনজীবী সমিতি। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, অর্থ গ্রহণ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে অসদাচরণ, হুমকি এবং মক্কেলের পাসবই ফেরত না দেয়ার অভিযোগে একাধিকবার সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর সমিতির সাধারণ সভায় হট্টগোল ও অসদাচরণের অভিযোগের পর তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়।
একই সঙ্গে হযরত আলী হিরনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। কেন তাঁর সদস্যপদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাঁকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সমিতি সূত্রে জানা গেছে।
চরফ্যাশন আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ রমিজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. লিটন হাওলাদার স্বাক্ষরিত নোটিশে এ সব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল ৫ অক্টোবর নোটিশটি জারি করা হয়। আজ ৬ অক্টোবর থেকে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
সমিতির নোটিশ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৫ মার্চ গঠনতন্ত্রের ৪০ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে হযরত আলী হিরনের সদস্যপদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। একই বছরের ১৬ নভেম্বর একটি দেওয়ানি মামলায় রায় পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর সদস্যপদ আবার ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।
পরে ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল ভবিষ্যতে আর কোনো অসদাচরণ করবেন না—এমন লিখিত মুচলেকা দেন হযরত আলী। এরপর তাঁকে আবার সমিতির সদস্য হিসেবে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেয়া হয়।
তবে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট সমিতির সভাকক্ষে জ্যেষ্ঠ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শাহাবুদ্দিন মালতিয়ার সঙ্গে অসদাচরণ ও তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় হযরত আলীর সদস্যপদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।
এরপর একই বছরের ৩১ আগস্ট চরফ্যাশন যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি মামলায় আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনাকে কেন্দ্র করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. হাবিবুর রহমান (সোহান)-এর সঙ্গে হযরত আলীর দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। তাঁর হাত থেকে মামলার নথি ও মক্কেলের পাসবই নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়। এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান সমিতিতে অভিযোগ করেন। পরে ভিজিল্যান্স কমিটির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর সমিতির কার্যালয়ে সাধারণ সভা চলাকালে জিআর ১৬১/২৬ মামলায় আসামিপক্ষের জামিন চাওয়াকে কেন্দ্র করে হযরত আলীর বিরুদ্ধে গালমন্দ, হট্টগোল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ সময় জামিন চাওয়ার কাজে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়।
এ সব ঘটনার পর সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি হযরত আলী হিরনের সদস্যপদ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে।
চরফ্যাশন আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. লিটন হাওলাদার বলেন, ‘বারবার গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও পেশাগত অনাচরণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী কার্যকরি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট মো. হযরত আলী হিরনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তাঁর ফোন রিসিভ করেননি।ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


















