ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতক্ষীরা দর্শনার্থীর ভিড়ে জমজমাট গুড়পুকুর মেলা, সন্ধ্যার সময়টুকু চান ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরায় ২৫০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সূচনা সাতক্ষীরা টিটিসি অধ্যক্ষের সাথে জেলা যুব অধিকার পরিষদের মত বিনিময় সভা  রাস্তার উপরে বালু-পাথর লোডের অভিযোগে বক্তব্য না দিয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন চাইলেন পরিবেশ কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০টি হারানো মোবাইল উদ্ধার ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই : নূরুল ইসলাম বুলবুল গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে ইভটিজিং, প্রশাসনের বাদী হয়ে মামলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৬নং ওয়ার্ডে মশক নিধন বিশেষ অভিযান পঞ্চগড়ে হাদী হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ  গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গাপূজা নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা

সাতক্ষীরায় ২৫০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সূচনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:২৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় ২৫০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সূচনা। জাতীয় গ্রিডে যাবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাগদা চিংড়ির রেণু উৎপাদনকারী ওশান হ্যাচারিতে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার হাইব্রিড সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে হ্যাচারির বিদ্যুতের খরচ কমার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শ্যামনগরের অন্যান্য হ্যাচারিতেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠান ও কারখানাগুলো নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে। এ বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, ওশান হ্যাচারিতে স্থায়ী সৌর প্যানেলের পরিবর্তে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রয়োজনের সময় প্যানেলগুলো একপাশে সরিয়ে নেওয়া যাবে। এতে হ্যাচারির পুকুর ও ট্যাংকে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছানোর সুযোগ থাকবে। শ্যামনগরের অন্যান্য হ্যাচারিতেও এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার ৭ অক্টোবর শ্যামনগরের ওশান হ্যাচারিতে প্রকল্পটির কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ও জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশ।

সাইমা পাওয়ার টেকনোলজি ও সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক (অপারেশনস) সাইমা সাজেদুল করিম বলেন, ওশান সি হ্যাচারির সঙ্গে ২৫০ কিলোওয়াটের হাইব্রিড সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি হয়েছে। বাগদা চিংড়ির হ্যাচারিতে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে এই প্রথম। বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে সৌর প্যানেল প্রয়োজন অনুযায়ী একপাশে ভাঁজ করে সরিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে হ্যাচারির ট্যাংক শুকানোর সময় জায়গাটি সম্পূর্ণ খালি করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ না থাকলেও হ্যাচারিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইউনিট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

হ্যাচারি মালিক আব্দুল আজিজ বলেন, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া যাবে। এতে বিদ্যুৎ খরচ কমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে আশা করছি।

তিনি জানান, প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। আগে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হ্যাচারির ছাউনি খুলে পুকুর ও ট্যাংকগুলো রোদে শুকাতে হতো। নতুন প্রযুক্তির সৌর প্যানেল ব্যবহারের ফলে সেই কাজ সহজ হবে এবং হ্যাচারির উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

পরিদর্শনকালে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিশেষ প্যানেল স্থাপন পদ্ধতি, হ্যাচারির উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের সমন্বয়, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় চায়না জেনিক্সগ্রিনের পরিচালক ডন, সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রকৌশলী দল, জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান, ওজোপাডিকোর সাতক্ষীরা অঞ্চলের কর্মকর্তা সোয়াইব হোসেন, সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মো. গোলাম মোস্তফাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, শ্যামনগরের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের চিংড়ি হ্যাচারি ও মৎস্য খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি হ্যাচারি শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের একটি অনুসরণযোগ্য মডেল তৈরি হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :