ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতক্ষীরা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত সদস্যদের পরিচিতি সভা ও শপথ গ্রহণ সাতক্ষীরায় ফ্যামিলি হেলথ কেয়ার সেন্টারে এক মাস বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু সাতক্ষীরা ৩৫ হাজার মুক্তার কারুকাজে দুর্গাপ্রতিমা, বাড়ছে দর্শনার্থী পঞ্চগড়ে নারী উদ্যোক্তা হাটের উদ্বোধন  রাজিবপুরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার  বগুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ পরিবার সোসাইটির স্মরণসভা গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘিরে উত্তেজনা, দুই শিক্ষার্থীকে মারধর  মধ্যনগরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা জেলা জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা গোপালগঞ্জে চায়না দুয়ারী জালে ধ্বংসের মুখে মৎস্য সম্পদ

সাতক্ষীরা ৩৫ হাজার মুক্তার কারুকাজে দুর্গাপ্রতিমা, বাড়ছে দর্শনার্থী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৫:০৫ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে ৩৫ হাজার মুক্তা দিয়ে সাজানো হচ্ছে ১৩টি প্রতিমা। ব্যতিক্রমী এ সাজসজ্জা দেখতে পূজার আগেই মণ্ডপে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের রং ও অলংকরণের কাজ।

বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত মন্দিরটিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমার শরীর ও অলংকারে নিপুণভাবে বসানো হচ্ছে মুক্তা। এ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী ও কারিগরেরা। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৩টি প্রতিমা তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪ লাখ টাকা।

দক্ষিণ বড়দল গ্রামের বাসিন্দা নির্মল মণ্ডলের ছেলে প্রতিমাশিল্পী প্রকাশ মণ্ডল গত ৫ জুলাই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রায় আড়াই মাস ধরে ৪ জন শিল্পী প্রতিমার কাঠামো তৈরি, মাটির কাজ, রং ও মুক্তার কারুকার্য ফুটিয়ে তোলার কাজ করছেন।

প্রকাশ মণ্ডল বলেন, প্রতিবছরই প্রতিমায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেন তারা। এবার দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় দেখা কয়েকটি মূর্তির নকশা ও নিজেদের পরিকল্পনা মিলিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। চারজন শিল্পীর ৫২ দিনের পরিশ্রমে ১৩টি প্রতিমায় প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজের প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছে।

বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অর্ধেন্দু মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিবছর নতুন কিছু করার চেষ্টা করা হয়। এবার মুক্তার কারুকার্যের মাধ্যমে প্রতিমায় ভিন্নতা আনা হয়েছে।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর মণ্ডল বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে পূজার আগেই অনেকে মণ্ডপে আসছেন। পূজার পাঁচ দিন সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। অষ্টমীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নবমীতে ধর্মীয় যাত্রাপালার আয়োজন রয়েছে।

বিজয়া দশমীতে বড়দল ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী বুড়িয়া আড়ং মেলা। এ আয়োজনে বড়দল বাজার, মধ্যম বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, বিষ্ণুপুর, ফাকরাবাদ পূর্বপাড়া, কইসিটি ও বুড়িয়াসহ আশপাশের প্রায় ১০টি মণ্ডপের প্রতিমা একত্র করে বিসর্জন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

উৎসব ঘিরে মণ্ডপের নিরাপত্তায়ও নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। আয়োজকেরা জানান, মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আশাশুনি পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার বৌদ্দ জানান, এ বছর উপজেলায় মোট ১০৬টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন মণ্ডপে ব্যতিক্রমী প্রতিমা ও নান্দনিক সাজসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে। বড়দলের বুড়িয়ায় মুক্তার কারুকাজের পাশাপাশি ঘুঘুমারীতে ঝরনার আদলে বিশেষ আয়োজন এবং বুধহাটা কাছারীবাড়ি ও দক্ষিণ বড়দলে ডাল দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে সাতক্ষীরার বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এর মধ্যে আশাশুনির বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে ৩৫ হাজার মুক্তায় সাজানো ১৩টি প্রতিমা দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :