ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতক্ষীরা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত সদস্যদের পরিচিতি সভা ও শপথ গ্রহণ সাতক্ষীরায় ফ্যামিলি হেলথ কেয়ার সেন্টারে এক মাস বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু সাতক্ষীরা ৩৫ হাজার মুক্তার কারুকাজে দুর্গাপ্রতিমা, বাড়ছে দর্শনার্থী পঞ্চগড়ে নারী উদ্যোক্তা হাটের উদ্বোধন  রাজিবপুরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার  বগুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ পরিবার সোসাইটির স্মরণসভা গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘিরে উত্তেজনা, দুই শিক্ষার্থীকে মারধর  মধ্যনগরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা জেলা জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা গোপালগঞ্জে চায়না দুয়ারী জালে ধ্বংসের মুখে মৎস্য সম্পদ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘিরে উত্তেজনা, দুই শিক্ষার্থীকে মারধর 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:২৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ইনসাফ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাইফুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : জুনিয়র শিক্ষার্থীকে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের আত্মরক্ষায় লাঠি হাতে নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।

বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থী ও তাঁর ভাইয়ের বাগ্‌বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার রূপ নেয়। রাত আড়াইটা পর্যন্ত এ নিয়ে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেয়া লিখিত অভিযোগে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জায়েদ জামান দাবি করেন, ঘটনার রাতে মুক্তমঞ্চে বসে ছিলেন তাঁর মেজো ভাই অয়েজ জামান। তিনি আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ সময় বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে আইন বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাঁর ভাইকে মা-বাবা নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হয়রানি ও লাঞ্ছিত করেন।

অভিযোগে জায়েদ জামান আরও উল্লেখ করেন, দূর থেকে বিষয়টি দেখে তিনি এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁকেও গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের দিকে তেড়ে এসে মারধর করেন। এ সময় আইন বিভাগের ইমরান, জনি, সাইমুম, জয় শিকদার, মেহেদী, সাজিদ ও রাফি নামের শিক্ষার্থীরা তাঁকে ও তাঁর ভাইকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী তাঁদের দুজনকে আলাদা করে বাড়িতে চলে যেতে সহায়তা করেন। এরপর পরিসংখ্যান বিভাগের সহপাঠীরা এসে তাঁদের একটি অটোরিকশায় তুলে দেন। কিন্তু আইন বিভাগের মেহেদী এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিপ্র অটোরিকশাচালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তাঁদের নামিয়ে দেন এবং ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা এসে তাঁদের সরিয়ে নেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পরিসংখ্যান বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে গেলে তাঁদের সঙ্গেও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন জায়েদ জামান।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রক্টর দপ্তরে যান। এ সময় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের গেটের সামনে অবস্থান নেন।

পরবর্তী সময়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের হস্তক্ষেপে তাঁরা পেছনে সরে যান। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও লাঠি হাতে নিয়ে প্রক্টর দপ্তরের সামনে অবস্থান করেন।

পরে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাজিউর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দুই বিভাগের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের সমাধানে প্রক্টর দপ্তরে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে শুক্রবার ৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আহসান বলেন, “গতকাল রাতে আইন বিভাগের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আইন বিভাগ ও পরিসংখ্যান বিভাগের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় আমি থানায় অবস্থান করছিলাম। বিষয়টি শুনে দ্রুত সেখানে চলে আসি।”

তিনি বলেন, “মেইন গেটে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাই এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলি। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেখানে এলে আমরা তাঁদের হাদি চত্বরে নিয়ে আসি। এরপর হাদি চত্বর থেকে তাঁদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়।”

প্রক্টর আরও বলেন, “এরপরও দেখা যায়, আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাদি চত্বরে অবস্থান করছেন। সেখানে আমরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পাঠাই। পাঠানোর পরও দেখা যায়, প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থানরত পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ধাওয়া করা হয়।”

ঘটনাটিকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “খুবই তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। আমি তাঁদের আশ্বস্ত করেছি যে, সোমবার বিকেল ৪টার মধ্যে আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হবে না। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :